'ওয়ানাদ'(Wayanad) কোনোদিন এখানে এসেছেন? যদি না এসে থাকেন তাহলে এই প্রবন্ধটি সম্পূর্ণ পড়ুন।

 ওয়ানাদ ঘুরতে যেতে চান? তাহলে এই ব্লগটি সম্পূর্ণ পড়ুন। এই ব্লগটিতে জেনেনিন কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কি কি না নিলে চলবে না, কি কি কেনাকাটা করতে পারবেন। ওয়ানাদ হলো একটি সবুজ স্বর্গ, এটি কেরালার সবুজ অংশের মধ্যে পড়ে। এটি কালিকট থেকে খুব একটা বেশি দূরে নয়। ওয়ানাদ এমন একটি জায়গা যেখানে কেরালার চাষ আর শিল্প জগতের বাইরের একটি জগৎ । এটি হলো শান্ত এবং সুন্দর দৃশ্যকল্প এর জন্য বিখ্যাত। এখানে মূলত বন্য জীবন(Wild life) আর ঐতিহ্য এখানের মূল বস্তু। এই জায়গাটি কালিকট থেকে ৭৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, মূলত জায়গাটি গাছপালা, জঙ্গল এবং বন্য পরিবেশে ভরপুর। ওয়ানাদ হলো পরিষ্কার, মন্ত্রমুগ্ধ এবং সম্মোহিতকর। ওয়ানাদ তার আদিবাসী ঐতিহ্য, কৃষি সমৃদ্ধি, সবুজে ভরা জঙ্গল, জলের প্রাকৃতিক উৎস এবং পাহাড় আর বীরত্ব ও সাহসের কিংবদন্তি গল্পের জন্য বিখ্যাত। এখানে অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ আছে ,মশলা থেকে শুরু করে বন্য জীবজন্তু আরো অনেক কিছু। ওয়ানাদ  জায়গাটি দেখার জন্য অবশ্যই একবার যাওয়া উচিত ভ্রমণ প্রেমীদের। ওয়ানাদ  তুলনামূলক ভাবে এখানে সেইভাবে উন্নতি হয়নি, এখানকার উপজাতির জীবনযাত্রা তেমন ভাবে প্রসংশিত হয়নি কোনোদিন। 
Wayanad_tourism
source: flickr.com

এই জায়গাটি যখন ইংরেজদের হাতে পড়ে সেদিন থেকে এই জায়গার নতুন ইতিহাস শুরু হয়।  ইংরেজরা এখানে চা চাষ শুরু করে এবং আরো কিছু অর্থকরি ফসলের চাষ শুরু হয়। এখানে রাস্তা বানানো হয় ওয়ানাদ  এর বিপদজনক পাহাড়ের ঢাল দিয়ে, এই রাস্তা তৈরি হয় কালিকট, টেলিচেরি থেকে ওয়ানাদ পর্যন্ত। এই রাস্তা পরে বাড়িয়ে মাইসুর(Mysore) থেকে উটি(Ooty) পর্যন্ত করা হয় গুডলুর(Gudlur) হয়ে। এই রাস্তায় এখানে বাইরের মানুষের পথ সুগম করেছিল এখানে বসতি স্থাপনের জন্য। যখন কেরেলা রাজ্যটি তৈরি হচ্ছিলো তখ ওয়ানাদ ছিল কান্নুর জেলার মধ্যে পরে দক্ষিণ ওয়ানাদ কযহিকড়ে(Kozhikode) জেলার মধ্যে চলে আসে। কিন্তু ১৯৮০ সালে এটি একটি সম্পূর্ণ জেলা হিসাবে পরিচিত হয়। 

ওয়ানাদ(Wayanad) ভ্রমণ করার জন্য বিশেষ কিছু জায়গার তর্থ 

১. বানসুরা সাগর বাঁধ(Bansura Sagar Dam):
কালপেটার কবিনী নদীর উপনদী কারামানাথদু নদীর উপর এই বাঁধটি বানাও হয়েছে, এই বাঁধটি ভারতের বৃহত্তম আর এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাঁধ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এই বাঁধটি বানসুরা পাহাড়ের পাদদেশে স্থাপন করা হয়েছে, এই বাঁধটির নামকরন করা হয়েছে 'বানাসুরা' থেকে। 'বানাসুরা' ছিলেন রাজা 'মহাবলীর' পুত্র। কথিত আছে এখানে বানাসুরা এই পাহাড়ের চূড়ায় কঠিন তপস্যা করেছিলেন। 
Banasura_Sagar_Dam-Wayanad
Bansura Sagar Dam / source: wikimedia.org

২.  চেম্ব্রা  পিক (Chembra Peak): 
আপনি যদি প্রকৃতির প্রশংসক হন, আপনার যদি এডভেঞ্চার ট্রিপ করতে চান তাহলে চেম্ব্রা হলো একটি আদর্শ জায়গা আপনার জন্যে। কালপেটটা (Kalpetta) থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে, মেপাডি(Meppady) শহরের কাছে  সব থেকে উঁচু চূড়া হলো চেম্ব্রা পিক ওয়ানাদের মধ্যে। চেম্ব্রা পিক 
সংযুক্ত আছে নীলগিরি পাহাড়ের মধ্যে যেটি তামিলনাড়ুর মধ্যে অন্তর্গত। মেপাডি  শহর থেকে হেটে আপনি এই চূড়ায় উঠতে পারবেন। 
Chembra_Peak_wayanad
Chembra Peak / source: wallpaperflare.com

৩. কুরুভা দ্বীপ(Kuruva Island):
কুরুভা দ্বীপটি একটি সুরক্ষিত নোটি ব-দ্বীপ, এই দ্বীপটি কাবিনি নদীর মাঝে অবস্থিত। এই দ্বীপ মুটামুটি ভাবে ৯৫০ একর জায়গাতে অবস্থিতি, এই জায়গাটি অনেক ধরণের উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের বাসস্থান। এর ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য এই জায়গাটি সবসময় সবুজে ভোরে থাকে। এখানে আসলে আপনি দেখতে পারবেন কিছু বিরল প্রকৃতির গাছ, আর বাঁশের তৈরি ব্রিজ গুলি। জনশুন্য এই দ্বীপে বিরল  প্রজাতির পাখি, অর্চিড, ভেষজ উদ্ভিত ইত্যাদির আবাসস্থল।
Kuruva_Island_wayanad_kerala
Kuruva Island / source: wikimedia.org

৪. পুকোডে হ্রদ(Pookode Lake):
কালপেটটা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে পুকোডে হ্রদটির অবস্থান, এটি মিথ্যা জলের হ্রদ। এই হ্রদটি ১৬ একর জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে আছে এবং এর গভীরতা হলো ৪০ মিটার, এখানে আসলেই আপনি বুঝতে পারবেন যে জায়গাটি কত সুন্দর এবং শান্ত। এই হ্রদটির চারিপাশে গাছের অবস্থান যা সত্যি খুব আকর্ষণীয়, যারা ফটোগ্রাফার এবং প্রকৃতি প্রেমিক তাদের এই জায়গা নিশ্চই পছন্দ হবে। 

৫. মুথাঙ্গা রেইনফরেস্ট (Muthunga rainforest):
এই জায়গাটি ৩৪৫ বর্গ কিলোমিটারে ছড়িয়ে আছে, এখানে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বাসস্থান। এই জায়গাটি সাধারণত হাতি সংরক্ষণের জন্য পরিচিত। এখানে আপনি পাতলা বন জঙ্গল এবং একটু কম সবুজ দেখতে পাবেন। 
Muthunga_rainforest_wayand
Muthunga rainforest / source: wallpaperflare.com

আরো অনেক কিছু দেখার আছে এখানে যেমন, সুল্থান ব্যাথেরি(sulthan bathery), এডাক্কাল গুহা(Edakkal Cave), থিরুনেল্লি মন্দির(Thirunelli Temple)  ঐতিহাসিক জায়গা(Wayanad Historical Place) আপনি দেখতে পাবেন। এখানে এইসব জায়গা ঘুরতে হলে সাথে একটি ম্যাপ(Wayanad map) রেখে দেবেন ,জায়গাটিকে ভালো ভাবে বোঝার জন্য। 
Thirunelli Temple
Thirunelli Temple / source: wikimedia.org


ওয়ানাদ কি করে যাবেন?(How to reach Wayanad?)

সবথেকে দ্রুত আপনি যেতে পারেন ক্লকটাত থেকে ফ্লাইট নিয়ে আপনি বেঙ্গালুরু আসবেন তারাবোর ওখান থেকে ইন্ডিকা(Indica) নিয়ে আপনি ওয়ানাদে আস্তে পারবেন। আর আপনি যদি সব থেকে সস্তায় আস্তে চান তাহলে আপনি হাওড়া  থেকে Hwh Ypr duronto চেপে বেঙ্গালুরু তারপর ওখান থেকে আপনি বাস পেয়ে যাবেন এখানে আসার জন্য। 

Post a Comment

0 Comments