উত্তরাখন্ড জায়গা হলো একটি প্রাকৃতিক স্বর্গো, যেখানে ১৯৩৬ সালে জিম করবেট(Jim Corbett) জাতীয় উদ্যান টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর আগে এটি হেইলি জাতীয় উদ্যান নামে  পরিচিতি পেয়েছিলো এবং এই উদ্যানটি প্রতিষ্টিত হয়ে ছিল রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে সংরক্ষণ করার জন্য। এই জায়গাটি  হলো খুব সুন্দর সময় কাটানোর জায়গা, যেখানে আপনারা সবুজ পরিবেশ এবং নির্জনে কিছু দিন কাটিয়ে আস্তে পারেন, এখানে কিছু অংশ টুরিস্টদের জন্য  খুলে দেয়া হয়েছে আবার এই জঙ্গলের কিছু অংশ সংরক্ষিত করে রাখা আছে, যেখানে কোনো রকম ভাবে প্রবেশ করা যাবে না। যাদের জঙ্গল কিংবা সবুজ পরিবেশ ভালোবসেন তাদের জন্য এটি হলো স্বর্গো। এই প্রবন্ধটি ভালো করে পড়ুন, এবং জেনেনিন আপনার জন্য কি লুকিয়ে আছে এই জিম করবেট জাতীয় উদ্দানে। (travel guide) 
Jim Corbett
source: wikipedia.org

জিম করবেট জাতীয় উদ্যানে  যাওয়ার সেরা সময়:

জিম করবেটের(Jim Corbett) একটি শীতকালীন জলবায়ু রয়েছে। এখানে আপনি সবসময়ই ভ্রমণ করতে পারেন কিন্তু বর্ষার সময় তা বাদ দিয়ে, তখন জঙ্গলের কিছু অংশ বৃষ্টির জন্য বন্ধ থাকে। শীতকালে আপনি এখানে ঘুরতে আস্তে পারেন কারণ শীতকালের সময়টা আবহাওয়াটি খুব সুন্দর এবং মনোরম থাকে। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মধ্যে এই সময়টি আদর্শ এখানে ঘোরার  জন্য। এই সময়টিতে বিভিন্ন ধরণের পাখির আনাগোনা থাকে, যারা পাখি পর্যটক তাদের জন্য এই সময়টি হলো আদর্শ। এখানে আপনি গ্রীষ্মকালেও আস্তে পারেন কিন্তু তখন ওখানের জীবজন্তুদের আনাগোনা তেমন দেখা যায়না, তখন তাদের দেখতে হলে একমাত্র  পুকুরের কাছে আপনাদের যেতে হবে। 

জিম করবেট জাতীয় উদ্যানে যেসব একটিভিটি(Activities) আপনারা করতে পাইবেন:

করবেট জাতীয় উদ্যান হলো এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি অনাহাসে পালিয়ে আস্তে পারেন শহরের কোলাহল থেকে। এই জাতীয় উদ্যানে  কিছু  প্রখ্যাত একটিভিটিস (activities) আপনারা করতে পারেন। 


১. জঙ্গল সাফারি (Jungle Safari ) :

আপনি যদি কোনো জঙ্গলকে যদি অন্বেষণ করতে চান তাহলে সাফারি হলো হলো আপনার কাছে একমাত্র ভরসা। জিম করবেট ভাগ করা হয়েছে পাঁচ টি  জোনে(zone)  সেই জোন(zone)  খুলে দেয়া হয়েছে আপনাদের উপভোগের জন্যে। ওই জোন গুই হলো ঢেলা জোন (Dhela zone), বিজরানি জোনে (Bijrani zone), দুর্গাদেবী জোন (Durgadevi zone), ঝিরনা জোন (Jhirna zone), ধিকাল জোন (Dhikala zone)। ক্যান্টর সাফারি বা জীপ্ সাফারির মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন ওখানকার উদ্ভিত এবং প্রাণীজগত উদ্ঘাটন করার জন্য। আগে আপনি হাতি সাফারীও করতে পারতেন কিন্তু কিছু কারণের জন্য অতি এখন বন্ধ হয়। 

এই সময় আপনার সাফারি করতে পারেন: নভেম্বর - ফেব্রুয়ারী (সকাল ১০টা  - দুপুর ১টা  এবং ১:৩০টা  - বিকাল ৫:৩০টা )
Jim Corbett jungle safari
source: wikimedia.org

২. রিভার রাফটিং (River Rafting):

আপনি যদি এডভেঞ্চার (Adventure) প্রেমী হয়ে থাকেন তাহলে এখানে আর একটি একটিভিটি যাচ্ছে আপনার জন্য যেত হলো রিভার রাফটিং (river rafting)। এটি হলো একটি সিজনাল(seasonal) স্পোর্ট।  আপনি এটি বৃষ্টির সময় এটি খেলতে পারেন, এটি সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে খেলা হয়।  এই একটিভিটি(activity) নির্ভর করে বৃষ্টির উপর, যদি ভারী বৃষ্টিপাত হয় তাহলে এটি খুব রিস্কি হয়ে হয়ে যাই। 
Jim Corbett River Rafting
source: wikimedia.org


৩. ক্যাম্পিং (Camping):

জিম করবেট(Jim Corbett) জাতীয় উদ্যানের আর একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটিভিটি(activity) হলো ক্যাম্পিং (camping) যারা যারা চাই যে খোলা আকাশের নিচে, জঙ্গলে একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা তারা নিশ্চই চাইবে যে ক্যাম্পিং করতে। সবাই কে নিশ্চই এই একটিভিটি (activity) করা উচিত,  এটি একটি দারুন অভিজ্ঞতা। এখানে আপনি নিজের এবং প্রকৃতির মধ্যে একটা সামঞ্জস্য তৈরি করতে পারবেন। এখানে দুই ধরোনের ক্যাম্পিং আপনি দেখতে পারবেন একটি হলো স্থায়ী ক্যাম্প আর একটি হলো অস্থায়ী ক্যাম্প এই দুটি ক্যাম্প আপনি দেখতে পাবেন। স্থায়ী ক্যাম্প গুলি পার্কার পরিধি জুড়ে রয়েছে কুটির(Cottage) হিসাবে। আর যেটি অস্থায়ী সেটি রয়েছে সীতাবানী ফরেস্ট(Sitabani Forest) এর মধ্যে। 

আপনি এখানে সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ এর মধ্যে আস্তে পারেন। 
Jim Corbett camping
source: pexels.com


৪. পাখি পর্যবেক্ষণ(Bird Watching):

জাতীয় উদ্যান হলো স্বর্গ  পাখি পর্যবেক্ষকের(bird watcher) কাছে।  জিম করবেট জাতিয় উদ্যানে ৬৫০ এর চেয়েও বেশি ধরণের পাখি আছে, এর মধ্যে সাইবেরিয়া(Siberia) থেকে উড়ে আশা পাখিও আছে। এই পাখি গুলি আপনি দেখতে পাবেন নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে, এই সময়টি হলো আদর্শ সময় এখানে আসার (travelling)। এখানে অনেক বিরল প্রজাতির কিছু পাখি দেখা যাই ব্ল্যাক-হেড নাইট হেরণ, হোয়াইট পেলিকন, সিনামন বিটার্ন এবং আরো। 

এখানে আসার সঠিক সময় হলো নভেম্বর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে।
Bird watcher
source: flickr.com


৫.  ট্ৰেকিং (Trekking):

ট্রেকিং হলো একটি বিশেষ মজাদার একটিভিটি যেখানে পায়ে হেঁটে জঙ্গলকে উদ্ঘাটন করা।  আপনি যদি আউটডোর একটিভিটি (outdoor activity) পছন্দ করেন তাহলে জিম করবেট হলো আপনার সেই বিশেষ জায়গা যেখানে আপনি আউটডোর একটিভিটি(outdoor activity) গুলি করতে পারবেন। এখানে আপনি ট্রেকিং এর পাশাপাশি যদি পারাপার এর মতো কিছু ক্রিয়াকলাপ করতে পারবেন। আপনি ট্রেকিং এর মাধ্যমে জিম করবেট এর সংরক্ষিত জায়গা গুলি অন্বেষণ করতে পারবেন।  এখানে ট্রেকিং জন্য আদর্শ জায়গা হলো সীতাবানী জোন (Sitabani zone)। ট্রেকিং এর জন্য আপনি ভালো জুতো আর খাবার জল আপনার সঙ্গে নেবেন। 

এখানে আসার আদর্শ সময় হলো নভেম্বর থেকে মার্চ এর মধ্যে। 
trekking_jim_corbett
Source: piqsels.com


কিছু তর্থ জিম করবেট জাতীয় উদ্যান সম্পর্কে:

জিম করবেট জাতীয় উদ্যান এটি অবস্থিত হিমালয়ের পাদদেশে। জিম করবেট নাম করন করা হয়েছে স্যার এডওয়ার্ড করবেট এর নাম অনুসারে।  প্রথমে তিনি শিকারের জন্য বিখ্যাত ছিলেন কিন্তু তার পরে তিনি সংরক্ষণকারী হয়ে ওঠেন। জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক এর মধ্যে বাঘ সংরক্ষণ করা হয় এর অবস্থান এবং এর প্রাকৃতিক অবস্থান দেখে। বাঘ এর ছবি তোলার জন্য এটি হলো ফোটোগ্রাফারের জন্য স্বর্গ।  জিম করবেট প্রতিষ্টিত হয় ১৯৩৬ সালে, এই পার্কের আগের নাম ছিলো হেইলি ন্যাশনাল পার্ক, তারপর এর নাম পরিবর্তন করে এটির নাম করুন করা হয় রামাগাঙ্গা ন্যাশনাল পার্ক নামে।  এটি আবার বাঘ সংরক্ষিত করার বিশেষ জায়গায় বটে। 
৫২০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে এই পার্ক অবস্থিত, এখানে অনেক বেশি সংখক বাঘের অবস্থান সেই বাঘ কে বলা হয়  রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এখানে এই বাঘের সংখ্যা ২৪০ টি। এখানে আরো বিরল প্রজাতির হাতি, চিতা বাঘ, কুমির আরো চার ধরণের হরিণ ইত্যাদি দেখা যাই। জিম করবেট এর মধ্যে আরো ৬০০ প্রজাতির পাখি দেখা যাই। জিম করবেট ভারতের একমাত্র জায়গা যেখানে আপনি জঙ্গলের মধ্যে রাত কাটাতে পারেন কোনো রকম শহরের কোলাহল ছাড়া।  ধিকলা জায়গাটি জিম করবেট এর গভীর জঙ্গল এর মধ্যে অবস্থিত যেখানে আপনি সুন্দর ল্যান্ডস্কেপ দেখতে পারবেন আরো অনেক প্রজাতির জীবজন্তু আছে এখানে।  এখানে পাঁচটি জোন আছে যেটি হলো ঢেলা জোন (Dhela zone), বিজরানি জোনে (Bijrani zone), দুর্গাদেবী জোন (Durgadevi zone), ঝিরনা জোন (Jhirna zone), ধিকাল জোন (Dhikala zone)। 

জিম করবেট জাতীয় উদ্যানে ভ্রমণের(bhromon) জন্য কিছু পরামর্শ:

  • অবশ্যই আপনি শীতের কিছু জামা কাপড় নিয়ে নেবেন যদি আপনাদের সাথে বাচ্চা থাকে এখানে আসার জন্য। 
  • আপনারা যেখানে সেখানে হাঁটাচলা করবেন না নির্দিষ্ট পথ ধরে হাঁটবেন। 
  • বন্য জীবজন্তুদের থেকে একটু দূরত্ব বজায় রাখবেন। 
  • যেখানে সেখানে জঞ্জাল ছড়াবেন না। যে জায়গাটি যেমন আছে তেমনি রেখেদিন পারলে পরিষ্কার করে দেবেন। 
  • আপনারা আপনাদের সিমের সব সময় রেডি রাখবেন, কারণ যেকোনো সময় আপনি কিছু দেখতে পারেন মানে জীবজন্তু বা পাখি। 


কি করে আসবেন ?

এখানে আসার জন্য আপনাদের ট্রেন বা প্লেইন করে দিল্লি তে আস্তে হবে তারপর আপনারা বাস কিংবা ট্রেন পেয়ে যাবেন এখানে পৌঁছানোর জন্য। ট্রেনে করে আসলে এখানে রামনগর রেলওয়ে স্টেশন এ নামতেই হবে, স্টেশন থেকে আপনি ক্যাব পেয়ে যাবেন আপনার গন্তব্য জায়গার জন্য।